নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
উত্তুরে হাওয়ার দাপটে জেলায় শীতের ঝাঁকুনি স্পষ্ট। শনিবারের পর থেকেই আবহাওয়ার ছবিটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ভোরের দিকে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে পথঘাট। তার সঙ্গে সারাদিন শিরশিরে উত্তুরে হাওয়ার দাপটে কমছে দিনের তাপমাত্রা। সকালে সূর্যের দেখা মিলতে দেরি হওয়ায় ঠান্ডার অনুভূতি আরও বাড়ছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দু’দিন রাজ্যের সর্বত্র কুয়াশার সতর্কতা জারি রয়েছে। ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা ৯৯৯ মিটার থেকে নেমে ২০০ মিটার পর্যন্ত কমে যেতে পারে। কুয়াশা কাটলে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে পরবর্তী দু’-তিন দিনে পারদে বড়সড় হেরফেরের সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। যদিও বড়দিনের সময় দক্ষিণবঙ্গে ফের তাপমাত্রা কমতে পারে। বড়দিন থেকে বর্ষশেষ পর্যন্ত শীতের দাপট ভালোমতোই টের পাওয়া যাবে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছেন আবহবিদরা।
এ দিকে কৃষি দফতরের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২১ ডিসেম্বর পুরুলিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন নেমে গিয়েছিল ৯ ডিগ্রিতে। তবে জেলা প্রশাসন ও আলিপুর আবহাওয়া দফতরের হিসেব বলছে, ওই দিন পুরুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুর আবহাওয়া অফিস যে তাপমাত্রার তথ্য দেয়, তা পুরুলিয়া সার্কিট হাউস এলাকায় থাকা তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। সার্কিট হাউসের পিছনের ফাঁকা জায়গায় বসানো সেই যন্ত্রের মাপ ধরেই প্রশাসনিকভাবে সরকারি রিপোর্ট তৈরি হয়। অন্যদিকে কৃষি দপ্তরের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রটি রয়েছে হাতোয়াড়ার আরও খোলা এলাকায়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, খোলা মাঠ ও শহুরে পরিকাঠামোর পার্থক্য, কংক্রিটের উপস্থিতি, হাওয়ার চলাচলের ভিন্নতা—এই সব কারণেই একই জেলায়, মাত্র কয়েক কিলোমিটার ব্যবধানে তাপমাত্রায় এমন ফারাক দেখা যায়। তবে জেলাবাসীর অভিজ্ঞতায় শীতের যে বাস্তব অনুভূতি, তা কৃষি দপ্তরের হিসেবের কাছাকাছিই বলে মত অনেকের।




Post Comment