insta logo
Loading ...
×

দিলীপ বিনা পুরুলিয়া বইমেলা যেন মণিহারা ফণী

দিলীপ বিনা পুরুলিয়া বইমেলা যেন মণিহারা ফণী

সুজয় দত্ত , পুরুলিয়া:

নিবিষ্ট গবেষকের শূন্যতা নিয়েই শুরু হল পুরুলিয়ার বৃহত্তম বইপার্বণ। মঙ্গলবার ৪০তম পুরুলিয়া জেলা বইমেলার উদ্বোধন হল মানভূম ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন মাঠে। এই প্রথম বইমেলা শুরু হল মানভূম–পুরুলিয়ার ইতিহাস গবেষক দিলীপকুমার গোস্বামীকে ছাড়াই। অথচ এতদিন পুরুলিয়া বইমেলার প্রতিটি সংস্করণেই তাঁর লেখা বই ছিল পাঠকের প্রথম পছন্দ—বেস্টসেলার।

বইমেলার উদ্বোধন করেন সাহিত্যিক তথা ঝাড়গ্রামের তৃণমূল সাংসদ কালীপদ সরেন। সাত দিনের এই বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাসক কোন্থাম সুধীর, বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীব লোচন সরেন, বাঘমুন্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো, জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা গ্রন্থাগার আধিকারিক ও বইমেলা কমিটির সম্পাদক মার্শাল টুডু-সহ জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকেরা।

এবারের বইমেলায় রয়েছে মোট ১০৫টি স্টল। বাংলা, সাঁওতালি ও উর্দু—তিন ভাষার বইয়ের বিপুল সম্ভার সাজানো হয়েছে মেলাজুড়ে। জেলা গ্রন্থাগার আধিকারিক মার্শাল টুডু জানান, গত বছর প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। তাঁর আশা, এ বছর সেই অঙ্ক আরও বাড়বে।

বইমেলার আবহে বারবার উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রয়াত দিলীপকুমার গোস্বামীর নাম। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মানভূম–পুরুলিয়ার ইতিহাস, ভাষা ও লোকসংস্কৃতি নিয়ে নিরলস গবেষণা করেছেন তিনি। জেলার নানা প্রান্তে ঘুরে সাধারণ মানুষের মুখের কথা, লোককথা ও দলিল সংগ্রহ করেই গড়ে উঠেছিল তাঁর গবেষণার ভাণ্ডার। মানভূমের ভাষা আন্দোলন ও পুরুলিয়ার ববঙ্গভুক্তি, পুরুলিয়ার মন্দির ও পুরুলিয়ার থানার ইতিহাস থেকে শুরু করে পঞ্চকোট রাজ পরিবারের ইতিহাস—সবই উঠে এসেছে তাঁর লেখায়।জেলার ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা ও লেখালেখির পাশাপাশি জয়পুর আর বি বি হাইস্কুলে দীর্ঘদিন শিক্ষকতাও করেছেন তিনি। তবে পাঠদানের বাইরেও একাগ্র নিষ্ঠায় জেলার অতীতকে লিপিবদ্ধ করাই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান সাধনা।

জেলা শাসক কোন্থাম সুধীর বলেন, “সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মানুষ যেন বেশি করে বই কেনেন এবং বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ে, সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। বই পড়লে শরীর ও মন দু’টোই ভালো থাকে।”

তাঁকে ছাড়াই শুরু হলেও, ৪০ তম পুরুলিয়া বইমেলার প্রতিটি কোণে যেন রয়ে গেল দিলীপকুমার গোস্বামীর স্মৃতি। তাঁর রেখে যাওয়া গবেষণাই আগামী দিনে জেলার ইতিহাসচর্চার পথ দেখাবে—এমনটাই মনে করছেন বইপ্রেমী ও গবেষক মহল।

Post Comment