দেবীলাল মাহাতো, আড়শা :
মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে আড়শার যুবক বিষ্ণু কুমারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বৃহস্পতিবার জমা পড়ল কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। আদালতের মতে, প্রথম ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। ফলে মামলার তদন্তভার অন্য কোনো সংস্থার হাতে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আগামী ১৯ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৬ জুলাই। চুরি হওয়া মোবাইল রাখার অভিযোগ ওঠে বিষ্ণুর বিরুদ্ধে। খেদাডি গ্রামের শঙ্কর ভগবান মাহাত মোবাইল ফেরত পেতে আড়শা থানায় অভিযোগ জানান। পুলিশ বিষ্ণুকে থানায় ডেকে মোবাইলটি ফেরত দেয় এবং তিনি বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু ১৯ জুলাই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিরকাবাদ গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি মারধরের ফলেই বিষ্ণুর মৃত্যু হয়েছে। ২০ জুলাই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করা হয়। প্রথম রিপোর্টে শারীরিক সমস্যাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে মরদেহ পরদিনও হাসপাতালে রেখে বিষ্ণুর ভাই সমন কুমার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই দিনই আড়শা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হয়। মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়ায়— বনধ ও অবরোধের পাশাপাশি গ্রেফতার হয় কয়েকজন অবরোধকারী। আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হয় নদিয়ার এমস-এ। বৃহস্পতিবার সেই রিপোর্ট জমা পড়ার পর দুই প্রতিবেদনের অসঙ্গতি নজরে আসায় আদালত তদন্তে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিয়েছে।











Post Comment