insta logo
Loading ...
×

কেন ঝাড়খণ্ড ভোটে চোখ পুরুলিয়ার

কেন ঝাড়খণ্ড ভোটে চোখ পুরুলিয়ার

সুজয় দত্ত , পুরুলিয়া :

“পাশের ঘরে লাগলে আগুন,
ধোঁয়ায় চোখ করবে জ্বালা,
আঁচ লাগবে, পুড়তে পারো,
হও না যতই অন্ধ, কালা।”

রাত পোহালেই ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা নির্বাচন। পুরুলিয়ার তিন দিক ঘেরা প্রতিবেশী রাজ্যর নির্বাচন ঘিরে জেলার মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। অনেকের আত্মীয় বাড়ি রয়েছে সেখানে। পুরুলিয়া লাগোয়া ধানবাদ, বোকারো, সিন্দরি, চন্দনকিয়ারি ও নিরসায় গত নির্বাচনে জয় পেয়েছিল বিজেপি। ঝরিয়াতে জিতেছে কংগ্রেস। লক্ষ্যনীয় বিষয় পুরুলিয়ার যে যে বিধানসভা এই বিধানসভাগুলির লাগোয়া অর্থাৎ রঘুনাথপুর, পাড়া, পুরুলিয়া ও জয়পুর সেই সবকটি বিজেপির দখলে। অন্যদিকে সিল্লি ও গোমিয়াতে জিতেছিল আজসু। পুরুলিয়ার লাগোয়া বাঘমুণ্ডি বিধানসভাতে দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিজেপির এই সহযোগী দল। উত্তর, উত্তর পশ্চিম, ও পশ্চিম পুরুলিয়ার মানচিত্র থেকে সরে এসে দক্ষিণে গেলে দেখা যাবে ইচাগড়, জুগসলাই, ঘাটশিলা ও বহরাগোড়াতে ঝামুমো জয়ী হয়েছিল গত বিধানসভা নির্বাচনে। এই বিধানসভাগুলি লাগোয়া বান্দোয়ানে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। বলরামপুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে গিয়েছিল বিজেপির দখলে। ফলে সীমান্তের বিধানসভাগুলি নিয়ে পুরুলিয়ার মানুষের আগ্রহ স্বাভাবিক। কাল ১৩ নভেম্বর পুরুলিয়া সীমান্তের ঘাটশিলা, জুগসলাই, ও ইচাগড় সহ ঝাড়খণ্ডের ৪৩ আসনে ভোট। বাকি ৩৮ আসনে ভোট হবে ২০ নভেম্বর। ৮১ আসনের ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ৪২।

ঝাড়খণ্ডের মাও উপদ্রুত বিধানসভা এলাকায় রয়েছে ল্যান্ডমাইন আতঙ্ক। তাই সেইসব এলাকায় ভোট কর্মীদেরকে মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে করে বুথে পৌঁছে দেওয়া হল। কাল মাওবাদী উপদ্রুত ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা, খঁরসোওয়ায় ভোট। উপদ্রুত এলাকাগুলিতে হেলিকপ্টারে করে নজরদারি চালাচ্ছে কমিশন। লং রুট পেট্রোলিং-র পাশাপাশি
এরিয়া ডমিনেশন চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ঝাড়খণ্ড পুলিশ মিলিত টিম। মাওবাদী দমন অভিযানে পড়শি রাজ্য বাংলার সাহায্য নিচ্ছেন ঝাড়খণ্ড। পুরুলিয়া ছুঁয়ে মোট ৩৭০ কিমি ঝাড়খন্ড সীমানা। মাওবাদী উপদ্রুত এলাকা বলে চিহ্নিত বান্দোয়ান, বলরামপুর ছুঁয়ে থাকা পূর্ব সিংভূম ও সরাইকেলা-খঁরসোওয়া জেলা। ওই এলাকায় পুরুলিয়া জেলা পুলিশকে নিয়েই মাও দমনে অভিযান চলছে। ঝাড়খন্ডের ওই জেলার পুলিশ সুপার আশুতোষ শেখর বলেন, “মাওবাদী উপদ্রুত এলাকায় ভোট কর্মীদেরকে হেলিকপ্টারে করে বুথে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অভিযানের পাশাপাশি কড়া নজরদারি রয়েছে। যাতে অবাধে ভোটাররা বুথে পা রেখে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন।” প্রথম দফার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পার করতে মাওবাদী উপদ্রুত এলাকায় রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে কমিশন। ২৪ ঘন্টা নাকা চলছে পুরুলিয়ার ঝাড়খন্ড সীমানায়। এছাড়া সারপ্রাইজ নাকা চলছে দুই রাজ্যের ভৌগোলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে।
পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” সীমানা এলাকায় ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে মাও দমনে অভিযানের পাশাপাশি একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
বাংলা-ঝাড়খন্ড সীমানায় মোবাইল শ্যাডো জোনে নিরন্তর ওয়াকিটকিতে বাংলা- ঝাড়খন্ড পুলিশের যোগাযোগ বর্তমান। বাংলা থেকে নিষিদ্ধ বস্তু পাচার রুখতে দেখা যাচ্ছে তৎপরতা। পুলিশ চোখ রেখেছে সীমানায় মদের দোকানগুলিতেও।
এই বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়খন্ডে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ কোটি ৫৯ লক্ষ। এবার প্রথম ভোট দেবেন ১১ লক্ষ ৫ হাজার ভোটার। কাল অর্থাৎ ১৩ নভেম্বর মোট ৬৮৩ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। ২০ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫২৮ জন। প্রথম পর্বে যাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছেন সরাইকেলা আসনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির চম্পাই সোরেন, জামশেদপুর পূর্ব আসনে ওড়িশার রাজ্যপাল তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের পুত্রবধূ পূর্ণিমা দাস সাহু।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে ৬ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামিকাল, ১৩ নভেম্বর। বিধানসভা কেন্দ্রগুলি হলো সিতাই, মাদারিহাট, নৈহাটি, হাড়োয়া, তালড্যাংরা আর মেদিনীপুরে উপনির্বাচন। ঠিক তার আগের দিন দুই রাজ্যের মোট ১৭ জায়গায় ইডি হানা দিল।
গত সেপ্টেম্বর মাসে রাঁচির বারিয়াতু থানায় একটি আর্থিক তছরুপের এফআইআর দায়ের হয়। সেখানে অভিযোগ দায়ের হয় যে, বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা মেয়েদের পাচার করা হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে। আর তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় পরিচয়পত্র।
সঙ্গে হাওয়ালা আর হুণ্ডির মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার চক্রও চলছে।
বাংলাদেশিদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অর্থ পাচার রুখতে ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে ইডি। এমনটা ইডি সূত্রে জানা গেলেও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযান ঘিরে।

Post Comment